প্রকাশ : ... | ... | ...

“৫০১ ছিল আমাকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র, আল্লাহ সেটিকে ব্যর্থ করেছেন” — মাওলানা মামুনুল হক


সংযুক্ত ছবি

সংগ্রহীত এডিটিং | ছবি: ২০/৬/২০২৬

বহুল আলোচিত নারায়ণগঞ্জের রয়েল রিসোর্টের ‘৫০১ নম্বর কক্ষ’ সংক্রান্ত ঘটনা নিয়ে দীর্ঘ ব্যাখ্যামূলক বক্তব্য দিয়েছেন ইসলামী বক্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মাওলানা মামুনুল হক। তিনি দাবি করেন, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিলের ঘটনাটি ছিল তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের একটি “পরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় অপারেশন”, যার উদ্দেশ্য ছিল তাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে ধ্বংস করা। সম্প্রতি প্রকাশিত এক বিস্তারিত বিবৃতিতে তিনি বলেন, রয়েল রিসোর্টে অবস্থানকালে পুলিশ, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মী এবং গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা তার কক্ষে প্রবেশ করে তাকে ও তার সঙ্গে থাকা জান্নাত আরাকে হয়রানি করেন। “আমরা স্বামী-স্ত্রী ছিলাম” মাওলানা মামুনুল হক দাবি করেন, তার সঙ্গে থাকা জান্নাত আরা (ঝর্ণা) ছিলেন তার শরীয়তসম্মত স্ত্রী এবং ঘটনাস্থলেই তিনি ও জান্নাত আরা উভয়েই তাদের বৈবাহিক সম্পর্কের বিষয়টি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জান্নাত আরা পূর্বে অন্য একজনের স্ত্রী ছিলেন এবং পরবর্তীতে পারস্পরিক সম্মতিতে বিচ্ছেদের পর ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। “ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন করা হয়েছে” বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন, কোনো অভিযোগ বা অপরাধ ছাড়া তার ব্যক্তিগত জীবনে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ভঙ্গ করে কক্ষে প্রবেশ, ব্যক্তিগত ফোনালাপ প্রকাশ এবং বিভিন্ন তথ্য প্রচার কোন আইনের আওতায় বৈধ হতে পারে। তার দাবি, তিনি দেশের প্রচলিত আইন কিংবা ইসলামী শরীয়াহ— কোনোটিই লঙ্ঘন করেননি। “রাষ্ট্রীয় চাপেও অবস্থান পরিবর্তন করিনি” মাওলানা মামুনুল হক আরও দাবি করেন, ঘটনার পর বিভিন্ন পর্যায়ে তার ওপর রাজনৈতিক ও আদর্শিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিশেষ করে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার জন্য তাকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে তিনি বলেন, “আমি কোনো চাপের কাছে মাথানত করিনি এবং ইসলামের স্বার্থবিরোধী কোনো অবস্থান গ্রহণ করিনি।” জান্নাত আরার সঙ্গে বিচ্ছেদ বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০১৯ সালে শুরু হওয়া তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক প্রায় ছয় বছর স্থায়ী ছিল। পরবর্তীতে পারস্পরিক আলোচনা ও মতবিরোধের কারণে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। তবে বিচ্ছেদের আগ পর্যন্ত তিনি জান্নাত আরার ভরণপোষণ ও অন্যান্য দায়িত্ব পালন করেছেন বলে দাবি করেন। “৫০১ এখন প্রতিরোধ ও বিজয়ের প্রতীক” মাওলানা মামুনুল হক বলেন, তার বিরোধীরা ‘৫০১’ শব্দটিকে কটাক্ষ হিসেবে ব্যবহার করলেও তিনি এটিকে শেখ হাসিনা সরকারের ব্যর্থ ষড়যন্ত্রের প্রতীক হিসেবে দেখেন। তার ভাষায়, “৫০১ আমার পরাজয়ের নয়, বরং ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রীয় অপচেষ্টার পরাজয়ের স্মারক।” তিনি ভবিষ্যতেও এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে পরিচালিত প্রচারণার জবাব দিয়ে যাবেন বলে উল্লেখ করেন। শেষ বার্তা বিবৃতির শেষ অংশে তিনি রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে পারস্পরিক সম্মানবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং বলেন, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন ও কুৎসা রটনা কোনো সভ্য সমাজের সংস্কৃতি হতে পারে না। তিনি আল্লাহর কাছে সকলের জন্য হেদায়েত ও সঠিক বুঝ দানের প্রার্থনা করেন।