প্রকাশ : ... | ... | ...

“বিচার চাই না”—রামিসার বাবার আর্তনাদে কাঁদছে দেশ


সংযুক্ত ছবি

সংগ্রহীত এডিটিং | ছবি: ২০/০৫/২৬

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে নির্মমভাবে হত্যার ঘটনায় শোক, ক্ষোভ ও আতঙ্কে স্তব্ধ পুরো দেশ। কিন্তু সবচেয়ে হৃদয়বিদারক হয়ে উঠেছে নিহত শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লার কণ্ঠে উচ্চারিত একটি বাক্য— “আমি বিচার চাই না, কারণ আপনারা বিচার করতে পারবেন না।” গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে বুকভাঙা কান্না আর অসহায় ক্ষোভ নিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের বিচার করার কোনো রেকর্ড নেই। আমার মেয়েও আর ফিরে আসবে না। বড়জোর ১৫ দিন এটা নিয়ে আলোচনা হবে, তারপর আরেকটা ঘটনা ঘটবে, সব ধামাচাপা পড়ে যাবে।” মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর পল্লবীতে ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। নিহত শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা করার অভিযোগে প্রতিবেশী সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্নাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার এস এন নজরুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত দম্পতি মাত্র দুই মাস আগে বিপরীত পাশের ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। পুলিশের ভাষ্যমতে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খুঁজতে গিয়ে তার মা প্রতিবেশী ফ্ল্যাটের সামনে মেয়ের স্যান্ডেল দেখতে পান। দরজায় বারবার কড়া নাড়লেও ভেতর থেকে দরজা খোলা হয়নি। ঠিক সেই সময়ই ভেতরে চলছিল ভয়ংকর হত্যাযজ্ঞ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত সোহেল রানাকে পালানোর সুযোগ করে দিতেই স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘ সময় দরজা বন্ধ রাখেন। পুলিশের ধারণা, শিশুটি বিকৃত যৌনলালসার শিকার হয়েছিল। নির্যাতনের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। ঘটনার নির্মমতা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন জানা যায়, হত্যার পর আলামত গোপন ও মরদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে শিশুটির মাথা ও হাত বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। তবে ধর্ষণের বিষয়টি ময়নাতদন্ত ও কেমিক্যাল পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই বলছেন, দেশে শিশু নিরাপত্তা আজ ভয়াবহ সংকটে। মানুষের প্রশ্ন—একটি শিশুও কি আর নিরাপদ নয়? রামিসার বাবার কান্নাভেজা সেই কথাগুলো এখন পুরো জাতির বিবেককে নাড়া দিচ্ছে— “বিচার চাই না… কারণ বিচার হবে না।”