প্রকাশ : ... | ... | ...

হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধ পরিদর্শনে বিরোধী দলের জামায়াত নেতারা: অনিয়ম হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি


সংযুক্ত ছবি

বেড়িবাঁধ পরিদর্শন | ছবি: ২৭/০৩/২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক | জামালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ভাটি অঞ্চলের হাওরের মৌসুমি বোরো ফসল রক্ষায় নির্মাণাধীন বাঁধের অগ্রগতি ও মান নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই জামালগঞ্জে হাওর বাঁধ পরিদর্শন করেছেন বিরোধী দলের নেতারা। ১১ দলের পক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জামালগঞ্জ উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। শুক্রবার (২৭শে মার্চ) উপজেলার হালি হাওরের বেড়ীবাঁধ পরিদর্শন করেন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। পরিদর্শন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেন সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের অফিস সম্পাদক ও আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জামালগঞ্জ উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান, উত্তর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল হান্নান, সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী কামাল হোসেন, আলীনুর লালনসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল নেতাকর্মীরা। “হাওর বাঁচলে কৃষক বাঁচবে” পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ বলেন, ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা অনেকাংশেই হাওরের ফসলের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে আগাম বন্যার ঝুঁকি থেকে বোরো ধান রক্ষায় শক্ত ও টেকসই বেড়ীবাঁধ নির্মাণের কোনো বিকল্প নেই। তারা অভিযোগ করে বলেন, প্রতি বছরই বাঁধ নির্মাণে ধীরগতি ও অনিয়মের অভিযোগ উঠে, যার ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন সাধারণ কৃষকরা। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে এবার শুরু থেকেই কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। অনিয়মে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নেতারা সংশ্লিষ্ট পিআইসি কমিটি ও প্রশাসনের প্রতি কঠোর বার্তা দিয়ে বলেন, “বাঁধ নির্মাণের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে এবং মান বজায় রাখতে হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা গাফিলতি সহ্য করা হবে না।” তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরও বলেন, “যদি কোনো অনিয়ম বা অবহেলা ধরা পড়ে, তাহলে হাওর অঞ্চলের কৃষক-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ তা মেনে নেবে না—প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।” স্থানীয়দের সাথে মতবিনিময় পরিদর্শন শেষে নেতৃবৃন্দ স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষের সাথে মতবিনিময় করেন। এ সময় তারা হাওরবাসীর স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেন। বিশেষ বিশ্লেষণ:হাওরাঞ্চলের অর্থনীতি মূলত বোরো ফসলকেন্দ্রিক। সময়মতো ও মানসম্পন্ন বাঁধ নির্মাণ না হলে আগাম বন্যায় হাজার কোটি টাকার ফসলহানির আশঙ্কা থাকে। ফলে বিষয়টি শুধু স্থানীয় নয়, জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গেও সরাসরি সম্পৃক্ত—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।