সংগ্রহীত | ছবি: ৩০/৩/২৬
অবৈধ পথে পাড়ি—স্বপ্ন ছিল পরিবারের হাসি, ফিরলো নিথর দেহ; শোকে স্তব্ধ পুরো জনপদ নিজস্ব প্রতিবেদক:স্বপ্ন ছিল দারিদ্র্য জয় করে পরিবারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর। সেই স্বপ্ন নিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ইউরোপের পথে পাড়ি জমিয়েছিলেন সুনামগঞ্জের ছয় তরুণ। কিন্তু নির্মম বাস্তবতায় সেই স্বপ্ন আজ ভেঙে চুরমার—ভূমধ্যসাগরের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নিয়েছে তাদের প্রাণ। শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিস উপকূলের কাছে উদ্ধার করা হয় তাদের মরদেহ। জেলা প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে সুনামগঞ্জের ৬ জন রয়েছেন। তারা হলেন—ফাহিম, সাজিদুর, সাহানুর, মজিবুর, ময়না ও আহমদ জয়। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে চারজন দিরাই উপজেলার, একজন জগন্নাথপুর এবং একজন দোয়ারাবাজার উপজেলার বাসিন্দা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারিয়ে এখন নিঃস্ব ও দিশেহারা হয়ে পড়েছে প্রতিটি পরিবার। শোকের ছায়া পুরো জনপদেমৃত্যুর সংবাদ পৌঁছানোর পর থেকেই এলাকায় নেমে এসেছে শোকের মাতম। মায়ের আহাজারি, বাবার নির্বাক কান্না আর স্বজনদের বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশের বাতাস।“বিদেশে গিয়ে কিছু করবে”—এই আশাতেই ছেলেদের পাঠিয়েছিলেন তারা। কিন্তু এখন সেই ছেলেরা ফিরছে লাশ হয়ে। মরণফাঁদে অবৈধ অভিবাসনউল্লেখ্য, অবৈধভাবে ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার সময় ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবিতে প্রাণ হারিয়েছেন মোট ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাদের অধিকাংশই বাংলাদেশ ও সুদানের নাগরিক। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে প্রতিবছর অসংখ্য তরুণ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এমন বিপজ্জনক যাত্রায় নামছে। অথচ এই পথ যে কতটা ভয়াবহ, তার মর্মান্তিক প্রমাণ মিলছে বারবার। শেষ প্রশ্ন—কবে থামবে এই মৃত্যু মিছিল?একটি উন্নত জীবনের আশায় ঘর ছাড়লেও, সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হচ্ছে মৃত্যুর মিছিলে। প্রশ্ন উঠছে—কবে বন্ধ হবে এই ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসন? কবে নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা পাবে দেশের তরুণরা? সচেতনতার অভাব, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য আর দারিদ্র্যের চাপ—এই তিনের করাল গ্রাসেই যেন হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক তরতাজা প্রাণ…