সাইফুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি, ঢাকা আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর-২০২৬ উপলক্ষ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঢাকা মহানগর হতে দেশের বিভিন্ন জেলায় গমন করবেন। পবিত্র ঈদের সময় সাধারণত প্রায় ১.৫ (দেড়) কোটির অধিক মানুষ ঢাকা মহানগর ত্যাগ করেন এবং প্রায় ৪০ (চল্লিশ) লক্ষাধিক মানুষ অন্যত্র হতে ঢাকায় প্রবেশ করেন। ঘরমুখো মানুষের ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন ও আনন্দময় করার নিমিত্তে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড চলমান রয়েছে। আসন্ন ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের যাত্রা সুগম করার জন্য নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ করা হলোঃ (১) আগামী ১৭-০৩-২০২৬ তারিখ থেকে ২৩-০৩-২০২৬ তারিখ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও লরী চলাচল বন্ধ রাখতে হবে (তবে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য-দ্রব্য, পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্টস সামগ্রী, ঔষধ, সার এবং জ্বালানি বহনকারী যানবাহনসমূহ এর আওতামুক্ত থাকবে।) (২) আগামী ১৬-০৩-২০২৬ তারিখ হতে ঈদ যাত্রা সংশ্লিষ্ট যানবাহনের চলাচল সুগম করার জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মহানগরের অন্যান্য যানবাহন সমূহকে নিম্নেবর্ণিত সড়ক সমূহ পরিহার করে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ করা হলো: ক) ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক (কুড়িল টু আব্দুল্লাহপুর) খ) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক (গুলিস্তান টু সাইনবোর্ড) গ) ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক/ মিরপুর রোড: (আড়ং ক্রসিং টু আমিনবাজার) ঘ) ঢাকা-কেরানীগঞ্জ সড়ক (ফুলবাড়িয়া টু তাতিবাজার টু বাবুবাজার ব্রীজ) ঙ) ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক (গুলিস্তান টু বুড়িগঙ্গা ব্রীজ) চ) মোহাম্মদপুর বসিলা ক্রসিং হতে বসিলা ব্রীজ পর্যন্ত সড়ক ছ) আব্দুল্লাহপুর টু ধউর ব্রীজ সড়ক জ) ফুলবাড়িয়া টু সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল সড়ক (৩) গণপরিবহন মালিক ও শ্রমিকগণকে নিম্নে উল্লিখিত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো: ক. আন্তঃজেলা বাসসমূহকে টার্মিনালের ভিতরে যাত্রী উঠিয়ে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করতে হবে; কোন অবস্থাতেই টার্মিনালের বাহিরে সড়কের ওপরে বাস দাঁড় করানো যাবে না। খ. অনুমোদিত বাস কাউন্টার/স্টপেজ ব্যতীত রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো ও নামানো যাবে না। গ. ঢাকা মহানগরীতে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার রাস্তাসমূহে কোনভাবেই বাস পার্কিং করা যাবে না। ঘ. বিআরটিসি’র বাস সংশ্লিষ্ট ডিপো হতে বাহির হয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের জেলাসমূহে গমন করবে, কোন ক্রমেই ঢাকা মহানগরী ক্রস করতে পারবে না (যেমন- কল্যাণপুর ও গাবতলী টার্মিনালের বাস ডিপো হতে সরাসরি রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের দিকে চলে যাবে, তদ্রুপ ফুলবাড়িয়া ও কমলাপুর ডিপো হতে বাস সরাসরি চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দিকে চলে যাবে, ইত্যাদি।) ঙ. বাস যাত্রার শিডিউল অনুযায়ী টার্মিনাল হতে বাস ছাড়তে হবে। চ. যাত্রীদের নিকট হতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা যাবে না। ছ. যাত্রীদের সাথে দুর্ব্যবহার ও হয়রানি করা যাবে না। জ. একই সিটের টিকেট একাধিক যাত্রীর নিকট বিক্রয় করা যাবে না। ঝ. বাসের সিট ব্যতীত বাসের ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা যাবে না। ঞ. গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে। বেপরোয়া ও অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না। ট. ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু ব্রিজে ওভারটেকিং করা যাবে না। ঠ. নেশা জাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব ও শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। ড. বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। ঢ. বাস চালানো অবস্থায় মোবাইল ফোন বা হেডফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং বাসে উচ্চস্বরে গান বাজানো যাবে না। ণ. উল্টো রাস্তায় বাস চালানো যাবে না। ত. ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করে বাস চালক নিয়োগ করতে হবে। থ. মালিক কর্তৃক চালককে একটানা ৫ ঘণ্টা ও দিনে ৮ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করা যাবে না। দ. ফিটনেসবিহীন, যান্ত্রিক ত্রুটিযুক্ত, কালো ধোঁয়া নির্গমনকারী ও লক্কড়-ঝক্কর গাড়ি রাস্তায় নামানো যাবে না। (৪) যাত্রী সাধারণ এবং পথচারীগণকে নিম্নে বর্ণিত বিষয়গুলো অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ করা হলো : ক. সড়কে বিভিন্ন জায়গায় যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে উঠা যাবে না, নির্দিষ্ট টার্মিনাল/কাউন্টারে গিয়ে বাসে উঠতে হবে। খ. অপরিচিত কারো দেওয়া কোন খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা যাবে না। গ. ভ্রমণকালে মালামাল নিজ হেফাজতে/দায়িত্বে রাখতে হবে। ঘ. বাস যাত্রার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কাউন্টার/ টার্মিনালে হাজির হতে হবে। ঙ. রাস্তা পারাপারে ফুট ওভারব্রিজ/ আন্ডারপাস/জেব্রাক্রসিং অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। চ. চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী মোটরযানে যাত্রী হয়ে যাতায়াত করা যাবে না। ছ. দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার হওয়া যাবে না। জ. ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে হবে। বি:দ্র: জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর- ৯৯৯ এ যোগাযোগ করতে হবে। এমতাবস্থায়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন এলাকায় যানবাহনের শৃঙ্খলা রক্ষা ও যানজট এড়ানোর জন্য উল্লিখিত বিষয়াবলি সংশ্লিষ্ট সকল যানবাহনের মালিক, চালক ও নগরবাসীকে প্রতিপালন করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো। এই বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সকলের সহযোগিতা কামনা করছে।