প্রকাশ : ... | ... | ...

বাবার স্মৃতিচারণে ছেলে মাসুম মাহমুদের আবেগঘন চিঠি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা


সংযুক্ত ছবি

সংগ্রহীত এডিটিং | ছবি: ২০/১০/২৬

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি: মরহুম আলহাজ্ব সামছুল আলম তালুকদার (ঝুনু মিয়া)—জামালগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান। বাবার জীবনের নানা স্মৃতি, নীতি-আদর্শ, মৃত্যুভয়কে উপেক্ষা করে দেশে ফিরে আসা এবং মানুষের অধিকার রক্ষায় অবিচল থাকার গল্প তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন চিঠি লিখেছেন তাঁর ছেলে মাসুম মাহমুদ তালুকদার। চিঠিতে মাসুম মাহমুদ উল্লেখ করেন, পবিত্র হজ পালনরত অবস্থায় দেশে তাঁর বাবার বিরুদ্ধে মামলার খবর ও নানা আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি দেশে ফিরে আসেন। পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনেরা তাঁকে বাধা দিলেও তিনি দৃঢ়ভাবে বলেছিলেন, “আমি কোনো অন্যায় করিনি। আল্লাহ যেভাবে আমার মৃত্যু লিখেছেন, সেভাবেই মারা যাব—এক মিনিট বেশিও না, কমও না।” ছেলের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবা হজ থেকে নিজের কাফনের কাপড় ও আতর সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। এমনকি কোথায় তাঁকে দাফন করা হবে এবং কে জানাজার নামাজ পড়াবেন, সেটিও পরিবারের সদস্যদের জানিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর সেই ইচ্ছার সঙ্গে মিলে যায় পরবর্তী ঘটনা—আল্লামা নুরুল ইসলাম খান ও ফতেহপুরের সাহেব জানাজায় উপস্থিত ছিলেন এবং আল্লামা নুরুল ইসলাম খান জানাজার নামাজ পড়ান। চিঠিতে বাবার জনপ্রতিনিধিত্বের সময়কার সততা ও জনসেবার কথাও তুলে ধরেন মাসুম মাহমুদ। তাঁর দাবি, পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বাবা কোনো দিন টিএ/ডিএ গ্রহণ করেননি; বরং পাঁচ বছরের সম্মানির অর্থ মসজিদে মসজিদে তালিকা করে বিতরণ করেছেন। গাড়ির জ্বালানি খরচ বাঁচিয়ে কলেজ মসজিদেও দান করেছেন। তিনি নিজেকে জনগণের ‘কামলা’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন এবং সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে নানা চাপ মোকাবিলা করেছেন। বাবার সেই জীবনদর্শন নিজের মধ্যেও ধারণ করার কথা জানিয়ে মাসুম মাহমুদ লেখেন, সেই ঘটনার পর থেকে মৃত্যুভয় তাঁকে আর আগের মতো বিচলিত করে না। বাবার হজ থেকে আনা কাফনের কাপড় পরিবারের সদস্যদের জন্য এখনো আলমারিতে যত্ন করে রাখা আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। চিঠির শেষাংশে অন্যায়ের প্রতিবাদ ও মানুষের অধিকার রক্ষায় নিজের অবস্থানের কথা তুলে ধরে মাসুম মাহমুদ বলেন, মানুষের হক কথা বলতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করলেও সেই মৃত্যু হবে সম্মানের। আল্লাহর নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে কারও মৃত্যু ঘটানোর ক্ষমতা মানুষের নেই—এমন বিশ্বাস থেকেই আত্মমর্যাদা বজায় রেখে মানুষের জন্য কাজ করা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। মাসুম মাহমুদের এই স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে একজন প্রয়াত জনপ্রতিনিধির জীবনাদর্শ, ব্যক্তিগত বিশ্বাস, জনসেবার স্মৃতি এবং বাবার কাছ থেকে পাওয়া সাহস ও নৈতিকতার শিক্ষা।