পরীক্ষামূলক প্রচার

Breaking News

মেসির কোলে যে শিশুর যাত্রা, ১৯ বছর পর সেই ইয়ামালই বিশ্বকাপ ফাইনালে কিংবদন্তির প্রতিপক্ষ!

স্পোর্টস
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড
সংগ্রহীত এডিটিং ছবি: ১৬/০৭/২০২৬
সংগ্রহীত এডিটিং ছবি: ১৬/০৭/২০২৬

কখনও কখনও বাস্তবতা এমন গল্প লিখে, যা রূপকথাকেও হার মানায়। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে আবেগঘন অধ্যায়গুলোর একটি লেখা হতে যাচ্ছে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে। একদিকে ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়ে দাঁড়িয়ে আরেকটি বিশ্বকাপ ট্রফি হাতে তোলার স্বপ্নে বিভোর সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি। অন্যদিকে ফুটবলের নতুন যুগের সূর্য হয়ে ওঠা বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল, যার চোখে প্রথম বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।
এই অসাধারণ গল্পের শুরু ২০০৭ সালে।
কাতালান সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্ত ও ইউনিসেফের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন মাত্র ২০ বছর বয়সী তরুণ লিওনেল মেসি। বার্সেলোনার ফুটবলারদের সঙ্গে স্থানীয় পরিবারের শিশুদের নিয়ে পরিচালিত হয়েছিল সেই ব্যতিক্রমী আয়োজন।
সেদিন ভাগ্যের অদৃশ্য লিখনে মেসির কোলে তুলে দেওয়া হয়েছিল কয়েক মাস বয়সী এক শিশু। শিশুটির নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। পরম মমতায় তাকে গোসল করিয়েছিলেন মেসি, কোলে তুলে ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দাঁড়িয়েছিলেন। তখন কেউ কল্পনাও করতে পারেননি— সেই শিশুই একদিন বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে আলোচিত নাম হয়ে উঠবে।
বছরের পর বছর ছবিগুলো সবার অগোচরেই পড়ে ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করার পর মুহূর্তেই সেগুলো ভাইরাল হয়ে যায়। ফুটবলপ্রেমীরা বিস্ময়ে আবিষ্কার করেন— মেসির কোলে থাকা সেই শিশুই আজ বার্সেলোনা ও স্পেনের নতুন জাদুকর।
এরপর যেন ইতিহাসই লিখতে শুরু করেন ইয়ামাল। কৈশোরেই ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে একের পর এক রেকর্ড গড়ে তিনি বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল তরুণ তারকায় পরিণত হয়েছেন। তার ক্ষিপ্র ড্রিবলিং, অসাধারণ ফুটবলবোধ ও আত্মবিশ্বাস তাকে ভবিষ্যতের ব্যালন ডি'অরের অন্যতম দাবিদারে পরিণত করেছে।
অন্যদিকে বয়সকে যেন প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জ জানিয়ে চলেছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও মাঠে তিনি সমান প্রভাবশালী। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ যখন আর্জেন্টিনার হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন শেষ মুহূর্তে দুটি জাদুকরী অ্যাসিস্ট করে দলকে পৌঁছে দেন আরেকটি বিশ্বকাপ ফাইনালে।
এবার ইতিহাস দাঁড়িয়ে আছে এক অনন্য সন্ধিক্ষণে।
এক পাশে ফুটবল ইতিহাসের জীবন্ত কিংবদন্তি, যিনি শেষবারের মতো বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখতে চান। অন্য পাশে সেই শিশুই, যাকে একদিন নিজের কোলে আগলে রেখেছিলেন মেসি— আজ যিনি নতুন প্রজন্মের সবচেয়ে বড় প্রতীক।
২০০৭ সালের একটি দাতব্য ফটোশুট থেকে শুরু হওয়া গল্পটি আজ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মঞ্চে এসে দাঁড়িয়েছে।
এ যেন শুধু একটি ফাইনাল নয়; এটি দুই প্রজন্মের লড়াই, একজন কিংবদন্তির বিদায়ের সম্ভাব্য মঞ্চ এবং আরেকজন মহাতারকার অভিষেকের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
ফুটবল আজ ৯০ মিনিটের একটি ম্যাচের অপেক্ষায় নয়— অপেক্ষায় একটি নতুন ইতিহাসের।
শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি কার হাতে উঠবে? কিংবদন্তি লিওনেল মেসির, নাকি নতুন যুগের সম্রাট হতে চলা লামিন ইয়ামালের?
উত্তর দেবে সময়, কিন্তু এই গল্পটি ইতোমধ্যেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সুন্দর ও অবিশ্বাস্য রূপকথা হয়ে গেছে।

বিষয়:

এলাকার খবর

সম্পর্কিত