জাল নোটের প্রাদুর্ভাব | ছবি: ১৭/০৩/২৬
স্টাফ রিপোর্টার | বিশেষ প্রতিবেদন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে হঠাৎ করেই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে জাল টাকার ভয়ংকর সিন্ডিকেট। বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে জাল নোটের বিস্তার—আর এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সরলমনা ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা। সূত্র বলছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে বাজারে জাল টাকা ছড়িয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে ছোট দোকান, হাট-বাজার ও ঈদকেন্দ্রিক কেনাকাটার ভিড়কে কাজে লাগিয়ে তারা প্রতারণা চালাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই ভুক্তভোগীরা বুঝতেই পারছেন না, কখন তাদের হাতে আসছে জাল নোট। আতঙ্কে ব্যবসায়ী সমাজ বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ী মহলে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে। অনেকেই বলছেন— “কখন কার হাতে জাল টাকা দিয়ে ফাঁসিয়ে দেওয়া হবে, সেই ভয়ে আছি।” বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অপরাধ শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, বরং মানুষের সামাজিক মর্যাদা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও আঘাত হানে। রাজনৈতিক নাম ভাঙিয়ে অপতৎপরতা? অভিযোগ উঠেছে, জাল টাকার এই সিন্ডিকেট নিজেদের প্রভাব বিস্তারের জন্য রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়াল ব্যবহার করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে সচেতন মহল বলছে, এ ধরনের চক্রের সঙ্গে রাজনৈতিক দলের সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে—এমন কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ এখনো মেলেনি। বরং একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী বিভ্রান্তি ছড়াতেই এ কৌশল নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশাসনের জরুরি পদক্ষেপের দাবি এমন পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে সর্বমহল থেকে। বাজারে নজরদারি বাড়ানো জাল নোট শনাক্তকরণে সচেতনতা বৃদ্ধি সিন্ডিকেট চক্রকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এটি বড় ধরনের অর্থনৈতিক সংকটে রূপ নিতে পারে। নৈতিক অবক্ষয়ের শঙ্কা সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, জাল টাকার বিস্তার কেবল আর্থিক ক্ষতিই নয়—এটি মানুষের নৈতিক অবস্থানকেও দুর্বল করে দেয়। এতে সমাজে অবিশ্বাস বাড়ে, ব্যবসায়িক পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।